খুলনা রাজনীতি

বিশ্ব বরেণ্য বিজ্ঞানী পিসি রায় দক্ষিণ জনপদের মা ও মাটির গর্ব-এমপি বাবু

আশরাফুল ইসলাম সবুজ ।।  খুলনা-৬ আসনের মাননীয় জাতীয় সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত স্হায়ী কমিটির সদস্য, খুলনা জেলা আওয়ামীলীগের সুযোগ্য সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এবং কয়রা-পাইকগাছা সহ খুলনা জেলার মা,মাটি ও মানুষের প্রানের মানুষ  আলহাজ্ব মোঃ আক্তারুজ্জামান বাবু  বলেন, 

বিশ্ব বরেণ্য বিজ্ঞানী আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়(পিসি রায়) দক্ষিণ জনপদের মা ও মাটির গর্ব।তিনি আজীবন মানব কল্যাণে কাজ করে গেছেন, তিনি একাধারে ছিলেন শিক্ষক, গবেষক, ব্যবসায়ী, সমাজ সংস্কারক ও সমবায় আন্দোলনের পুরোধা। জগৎ বিখ্যাত এ বিজ্ঞানীর জীবন আদর্শ নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে উদ্যোগ নিতে হবে। 

আজ ২আগস্ট (রবিবার) বিজ্ঞানী পিসি রায়ের ১৫৯তম জন্ম বার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে এসব কথা বলেন তিনি ।

তিনি বলেন, প্রথিতযশা বিজ্ঞানী স্যার আচার্য প্রফুল্য চন্দ্র রায় দক্ষিণ বঙ্গপোসাগরের কোল ঘেঁষে এবং সুন্দরবনের পাদদেশে খুলনার পাইকগাছার রাড়ুলী গ্রামে ২ আগস্ট ১৮৬১ সালে জন্ম গ্রহন করেন। তিনি শিক্ষক গবেষক ও সংগ্রামী পুরুষ। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে তার সম্পৃক্ততা জাতি যুগ যুগ ধরে স্মরণ করছে। ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু আমাদের গর্বের স্যার পিসি রায়ের সম্পর্কে বলেছেন তার অপরিসীম শক্তিতে যেন পুরাকালের দৈত্যের মত ছিলেন। বিশেষ ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন বিজ্ঞান জগতের এক জগতের এক উজ্জল বর্ত্তিকা। রাসায়নিক গবেষণায় তিনি প্রধান পথিকৃত। তার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তারই কাছে শিক্ষা দিক্ষা পেয়ে আজ বাঙ্গালী নানা ক্ষেত্রে যশ অজর্ণ করেছে।

এ ধরনের বরণ্য ব্যক্তিরা যুগে যুগে পৃথিবীতে আসেন এবং তাদের কর্মময় জীবন আলোকিত করে নিজেকে মানব কল্যাণে উৎস্বর্গ করে যান। বিজ্ঞানী পিসি রায় এমন একজন ব্যক্তি ছিলেন, যিনি জীবনে কখনো ব্যক্তি স্বার্থ কিংবা ব্যবসায়ীক মনোভাব নিয়ে কোন কাজ করেননি। তিনি লেখাপড়া শেষে বিদেশে ভাল কোন চাকুরি করতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা না করে দেশে এসে প্রধান পেশা হিসাবে শিক্ষকতা শুরু করেন। তার শিক্ষকতার ব্রত আর বর্তমান শিক্ষকদের শিক্ষকতার মধ্যে অনেক তফাত রয়েছে উল্লেখ করে এমপি আক্তারুজ্জামান বাবু আরো বলেন, বর্তমান শিক্ষকদের মধ্যে প্রাইভেট পড়ানো এবং কিভাবে বেশী বেশী টাকা রোজগার করা যায় তার প্রতিযোগিতা চলছে। এ ধরনের প্রতিযোগিতা পরিহার করে বিজ্ঞানী পিসি রায়ের শিক্ষকতার আদর্শকে অনুসরণ করার জন্য শিক্ষকদের প্রতি তিনি আহ্বান জানান। বিজ্ঞানী পিসি রায় যে, একজন প্রকৃত দার্শনিক ছিলেন তা তার চেহারা ও কর্মকান্ড প্রমাণ করে। পিসি রায় খুলনা অঞ্চলের বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের জন্য নিউমার্কেটের পেছনে টেক্সটাইল মিলস গড়ে তোলেন। এ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে কাপরের সংকট ও বেকারদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। তার অমর কৃর্তি বেঙ্গল কেমিক্যাল। তিনি এক সময় হিসাব করে দেখেছিলেন এই কেমিক্যাল প্রতিষ্ঠার মধ্যদিয়ে লক্ষাধিক পরিবার উপকৃত হয়েছে। স্বাধীন ভারতে নতুন নতুন উদোক্তা আসার ফলে ঔষধ শিল্পে নতুন পুঁজি বিনিয়োগ হতে থাকে। নতুন উদ্যোক্তাদের চেষ্টার কাছে এপিসি ফার্মাসিটিক্যালস হার মানতে শুরু করে। তিনি বাগেরহাটে শিক্ষার বিকাশ লাভের জন্য পিসি কলেজ, রুপসা উপজেলার অদুরে নৈহাটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, খুলনা শহরের এপিসি গার্লস স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। মহাজনের সুদের হার থেকে মুক্তি পেতে কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংক গড়ে তোলেন। দি বেঙ্গল কো-অপারেটিভ অর্গানাইজেশন সোসাইটি ও বেঙ্গল কো-অপারেটিভ এন্ট্রি ম্যালিরিয়াল সোসাইটি। ১৮৯৫ সালে মারকিউরাস নাইটরাইড আবিস্কার করে বিশ্বে আলোরণ সৃষ্টি করেন। ব্রিটিশ সরকার ১৯১৯ সালে তাকে নাইট উপাধী দেন। ভারতীয় নানা ক্ষেত্রে তিনি যশ অর্জন করেন। একজন পথিকৃত এবং মহান কৃর্তির স্রষ্টা পিসি রায় স্মরণীয় হয়ে আছেন। তিনি সংসার বিমুখ মানুষ ছিলেন। গুস্মামী পরিবারের সন্তান হওয়াও চিন্তায় চেতনায় ছিলেন মানুষের মুক্তির দুত। শিক্ষাকতা ও গবেষণা করেই ক্ষান্ত হননি। বিজ্ঞান চর্চার জন্য বিজ্ঞান ক্লাবসহ নতুন নতুন জিনিস আবিস্কারে করেন। বিজ্ঞানী পিসি রায় ১৯৪৪ সালের ১৬ জুন পরলোক গমন করেন। চিরকুমার এ বিজ্ঞানী জীবনের অর্জিত সকল সম্পদ মানব কল্যাণে দান করে মানবতায় যে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মাঝে তা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে এমপি আক্তারুজ্জামান বাবু আশাবাদ ব্যক্ত করেন। 

Please follow and like us: